মোবাইল ফোন হ্যাক করার নিয়ম ও হ্যাকিং সম্পর্কে জানুন

মোবাইল ফোন হ্যাক করার নিয়ম : বন্ধুরা আজকে আমি এন্ড্রয়েড মোবাইল হ্যাকিং নিয়ে আলোচনা করব। কিভাবে হ্যাক করা হয়? হ্যাকিং কি? ডিভাইস হ্যাক হলে করণীয় কী ইত্যাদি। বর্তমানে হ্যাকিং একটা বড় ধরনের ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের সমাজে। স্মার্ট ফোন যেমন উপকারে আসে তেমনই কারো জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় । সো হ্যাকিং থেকে কিভাবে নিজেকে রক্ষ্যা করবেন সেটাই আজকে আপনাদের জানাবো। আর যারা অন্যের ক্ষতি করার জন্য হ্যাকিং শিখতে আসছেন তাদের জন্য এখানে তেমন কোনো ইনফরমেশন নেই।

কারণ আজকে আমি দেখাব কিভাবে একটি মোবাইল হ্যাক করা হয় এবং কি করলে আপনি সেই হ্যাক হওয়া থেকে বাঁচতে পারবেন।

বর্তমান সমাজে মানুষ স্মার্ট ফোন বেশি ইউজ করে কিন্তু কিভাবে সেটা সম্পূর্ণ সিকিউর ভাবে চালাতে হয় সেটা জানে না। আবার অনেকে স্মার্ট ফোন ভালো করে চালাতে পারে না বা তেমন ভালো বোঝে না মোবাইল সমন্ধে। তাই তাদের উচিৎ এই আর্টিকেলটি ভালো করে পড়া ও সেই অনুযায়ী নিজেকে হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষ্যা করা। তাই আপনার এখন মোবাইল ফোন হ্যাক করার নিয়ম জানা দরকার।

এইসব মোবাইল হ্যাকিং করে অনেকে মেয়েদের ব্ল্যাক মেইল করে থাকে। ফলে একটি মেয়ে নিজেকে আর মানুষ বলে ভাবতে পারে না। দুনিয়ার মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা উঠে যায় এবং আত্মহত্যা করারও চেষ্টা করে।

তাই হ্যাকিং থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য হ্যাকিং সম্পর্কে ধারনা থাকা দরকার। তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই কিভাবে হ্যাকারদের প্রতারণা থেকে নিজেকে বাঁচানো যায় ও স্বাধীন ভাবে সমাজের মানুষের কাছে মাথা উচু করে দাঁড়ানো যায়।

হ্যাকিং কি?

সহজ ভাষায় হ্যাকিং হলো কোনো ব্যাক্তি অন্যের সিস্টেমে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে তার ফাইল চুরি ও পরিবর্তন করাকেই হ্যাকিং বলে।

অর্থাৎ আপনার মোবাইলে যদি কোনো ব্যাক্তি আপনার অনুমতি না নিয়ে কোনো নাম্বার, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি নিয়ে থাকে বা পরিবর্তন করে তাহলে সেটা হ্যাকিং এর মধ্যে চলে আসে।

এভাবে যারা অন্যের সিস্টেমে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে তারা ব্ল্যাকমেইল করার সুযোগ তৈরি করে। আপনি যদি সিস্টেমটি লক করে রাখেন তাহলে অনেকটা নিরাপদে থাকতে পারবেন।

হ্যাকাররা যাদের টার্গেট করে থাকে তাদের বলা হয় ভিকটিম। হ্যাকারদের প্রধান কাজই হলো ভিকটিমের দূর্বলতা খুঁজে বের করা ও সেটা দিয়ে ভিকটিমকে আক্রম করা।

আপনি কখনোই নিজের ডিভাইস অন্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে চলেন যাবেন না। যদি ডিভাইস নষ্ট হয়ে যায় বা কোনো ফাংশন বোঝতে না পারেন তাহলে যাকে দিয়ে ঠিক করাবেন তার সামনে থেকেই ঠিক করিয়ে নিবেন। কারণ যে কেউই আপনার ডিভাইস থেকে তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।

আজকাল মোবাইল হ্যাকিং ইস্যুটা অনেক বড় হয়ে দড়িয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো স্মার্ট ফোন সম্পর্কে মানুষের নলেজ কম থাকা ও এর সঠিক ব্যবহার না জানা।

তাই স্মার্ট ফোন সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের নলেজ অর্জন করার জন্য আপনি এই ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত ভিজিট করতে পারেন। অথবা ইউটিউবে নানা রকম ভিডিও দেখেও শিখতে পারেন।

এছারাও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলো ইউজ করে মানুষ বেশি প্রতারণার শিকার হয়। যেমনঃ imo,facebook,whatsapp-ইত্যাদি। যারা বিদেশ থাকেন এবং ইমুতে স্বামী-স্ত্রী কথা বলেন তাদের ইমু ও হুয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট বেশি হ্যাক হয়ে থাকে। আর হ্যাকেরদের টার্গেটই থাকে তাদের উপর।

কারণ এইসব অ্যাপে স্বামী-স্ত্রী অনেক কথাই বলে থাকে এবং বিভিন্ন পার্সোনাল ভিডিও একে-অপরকে শেয়ার করে থাকে। তাই আপনারা সবসময় নিজের মোবাইল ফোন কাছাকাছি রাখবেন ও কারো কাছে না দিয়ে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করবেন।

অনেকের ইমু একাউন্ট হ্যাক করে ভিকটিমের বিভিন্ন ব্যাক্তিগত ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ছেড়ে দেবে এই ভয় দেখিয়ে প্রতারকরা টাকার আবদার করে থাকে। আর এইসব হয়ে থাকে শুধুমাত্র ভিকটিম নিজেকে নিরাপদে রাখতে না পেরে ও কাউকে অন্ধবিশ্বাস করে।

নিচে হ্যাকারদের কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো-

  1. আপনি যখন কারো কাছে মোবাইল ঠিক করতে দিবেন তখন সে যদি আপনাকে না দেখিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে মোবাইল ঠিক করার চেষ্টা করে তাহলে আপনি বোঝে নিবেন সে আপনার কোনো তথ্য হাতিয়ে নিতে চাচ্ছে।
  2. হঠাৎ করে কেউ যদি আপনার মোবাইল ধরতে চায় বা কোনো কারণ দেখিয়ে মোবাইলটি তার কাছে কিছু সময়ের জন্য চায় তাহলে বোঝে নিবেন সে আপনার নাম্বার, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য জেনে নিতে চাচ্ছে।
  3. ফেসবুক,ইমু ও অন্যান্য একাউন্টে কেউ যদি লিংক পাঠায় এবং সেই লিংকে ক্লিক করতে বলে তাহলে বোঝে নিবেন সেটা কোনো হ্যাকিং লিংক। সেটায় ক্লিক করার পর যদি আপনার একাউন্টার নাম্বার ও পাসওয়ার্ড চায় তাহলে মনে করবেন সেটা হ্যাকিং লিংক।
  4. আপনার মোবাইলে কোনো ভেরিফিকেশন কোড মেসেজ আসলে সেটা অন্যকেউ চাইলে মনে করবেন আপনার ইমু,ফেসবুক বা অন্য যেকোনো একাউন্ট হ্যাক করতে চাচ্ছে।
  5. ইমু,ফেসবুক ও অন্য যেকোনো একাউন্টে কেউ যদি ভিডিও কলের মাধ্যমে আপনার নগ্ন শরীর দেখতে চায় তাহলে মনে করবেন সে আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করতে চাচ্ছে। লাইক আপনার গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ড।

কিভাবে মোবাইল হ্যাক করা হয়?

ইন্টারনেটে অনেক টাইপের এন্ড্রয়েড মোবাইল হ্যাক করার সফটওয়্যার পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, সিম কার্ডে একটি মেসেজ পাঠিয়ে কোড সংগ্রহ করে যেকোনো একাউন্ট হ্যাক করা যায়।

আপনি যদি মোবাইল বা সিস্টেম নিয়ে সচেতন না থাকেন তাহলে যেকোনো সময় বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন। এছারা ফেসবুকে একটি ভুয়া লিংক পাঠিয়ে ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করা সম্ভব। কিভাবে এইসব হ্যাকিং কাজগুলো করে থাকে তা বিস্তারিত জেনে নিন।

ইমু আইডি হ্যাক করার উপায়

একজন হ্যাকার যখন ভিকটিমকে টার্গেট করে তখন সে নানা রকম উপায় খুঁজে থাকে। ইমু একাউন্ট হ্যাক করার জন্য হ্যাকার প্রথমে আপনার সিম নাম্বার যেকোনো ভাবে সংগ্রহ করে থাকবে। আর সেই নাম্বার দিয়ে সে তার মোবাইলে থাকা ইমু সফটওয়্যারে ইমু আইডি খুলার চেষ্টা করবে। কিন্তু সেটা সম্ভব না।

কারণ আপনি অলরেডি সেই নাম্বার দিয়ে ইমু আইডি চালাচ্ছেন এবং কেউ যদি আপনার নাম্বার দিয়ে অন্য কোনো ডিভাইসে ইমু একাউন্ট খুলার চেষ্টা করে তখন আপনার মোবাইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড চলে আসবে। আর সেই কোড ছাড়া ইমু একাউন্ট হ্যাক করা সম্ভব না। তাহলে কিভাবে ইমু আইডি হ্যাক করা যায়? চলুন আরো জেনে নেই-

আপনি যখন সিম নাম্বার দিয়ে নতুন একটি ইমু আইডি খোলার জন্য imo সফটওয়্যারে সাইন আপ করেছেন তখন নাম্বার ভেরিফিকেশন করার জন্য আপনার সিম কার্ডে ইমু সার্ভিস থেকে মেসেজের মাধ্যমে একটি কোড গিয়েছিল। আর সেই কোড দিয়েই আপনি একাউন্ট তৈরি করতে পারছেন।

imo id hack

ঠিক তেমনি ভাবে হ্যাকার তার ডিভাইসের ইমু সফটওয়্যারে আপনার নাম্বার দিয়ে সাইন আপ করার চেষ্টা চালায় এবং নাম্বার ভেরিফাই করার জন্য ইমু সার্ভিস থেকে যে কোড মেসেজের মাধ্যমে আপনার সিম কার্ডে পাঠায় সেটা হ্যাকার কোনো না কোনভাবে সংগ্রহ করে নেয়।

সেটা হতে পারে আপনার কোনো কাছের লোকের মাধ্যমে, আপনার মোবাইলটি তার কাছে নিয়ে অথবা আপনাকে কোনো ভাবে পটিয়ে ইত্যাদি। আর এভাবেই হ্যাকার বা প্রতারকরা ইমু আইডি হ্যাক করে ভিকটিমকে ব্ল্যাকমেইল করে থাকে।

আরো পড়ুন-

হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিং

হোয়াটস অ্যাপ একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ইমু, ভাইবার ব্যবহার করে যেমন একে অপরের সাথে কলিং, চ্যাটিং ও ভিডিও কনফারেন্স করতে পারেন ঠিক তেমনই হোয়াটস এপস দিয়েও সম্ভব। এইসব অ্যাপগুলো দিয়ে মানুষ যেমন হেল্পফুল হয় আবার কিছু প্রতারকদের কারণে ক্ষতিগ্রস্তও হয়।

আমি এখন whatsapp হ্যাক করার নিয়ম দেখাবো না। আমি দেখাবো কিভাবে হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট হ্যাক হতে পারে ও কি করলে আপনি এই হ্যাকারদের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন।

হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করার জন্য তেমন কোনো পরিশ্রম করতে হয় না হ্যাকারদের। মূলত যারা স্মার্ট ফোন সম্পর্কে ও প্রযুক্তি সম্পর্কে কম জানে তাদের অ্যাকাউন্টগুলো খুব সহজেই হ্যাক হয়ে যায়। এটা হলো ইউজারের উপর নির্ভর।

আপনি যদি ঠিক মতো মোবাইল ইউজ করতে পারেন তাহলে হ্যাকার বা প্রতারক খুব সহজেই হ্যাক করতে পারে না। যারা প্রোফেশনাল হ্যাকার তারা মূলত হ্যাক করতে পারে।

কারণ তারা হ্যাকিং সম্পর্কে সবকিছু জানে। আর যারা কারো সাথে প্রতারণা বা ক্ষতি করতে চায় তারা মূলত ইউটিউব ভিডিও দেখে কিছু টিপস এন্ড ট্রিকস জেনে তারপর প্রতারণা শুরু করে।

হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করার পদ্ধতি

আমি আগেই বলেছি এখানে হোয়াটস এপস হ্যাকিং শিখাবো না। তবে কিভাবে হ্যাক হয়ে সেটা দেখাবো এবং সতর্ক করব। এখানে আমি দুই ভাবে হোয়াটস অ্যাপ হ্যাক হওয়ার নিয়ম শেয়ার করবো। তাহলে চলুন জেনে নেই-

সিমের কল হ্যাক করার কোড দিয়ে হোটাসঅ্যাপ হ্যাক

আপনি হয়তো ভাবছেন এটা কিভাবে সম্ভব? হ্যাঁ! এটাও সম্ভব যদি হ্যাকার ভিকটিমের মোবাইলে কল হ্যাক করার কোড ডায়াল করতে পারে তাহলে ভিকটিমের সিমে যত কল আসবে সব হ্যাকারের কাছে চলে যাবে আর সেটা ভিকটিমের বোঝার উপায়ও থাকে না।

মূলত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার জন্য একটি OTP কোডের প্রয়োজন হয়। যখন আপনি একটি নতুন হোয়াটস অ্যাপ একাউন্ট খুলতে যাবেন তখন যে নাম্বার দিয়ে আইডি খুলবেন সেই নাম্বার ভেরিফাই করার জন্য একটি OTP কোড পাঠানো হয়।

এই ওটিপি কোড মেসেজের মাধ্যমেও দেওয়া হয় আবার চাইলে কল এর মাধ্যমেও দেওয়া হয়ে থাকে। যখন নাম্বার ভেরিফাই করার জন্য অপশন আসে তখন ইউজার চাইলে মেসেজের মাধ্যমেও OTP কোড নিতে পারবে আবার চাইলে সিমে কলিং এর মাধ্যমেও নিতে পারবে।

whatsapp id hack

তো কল হ্যাক করার জন্য ভিকটিমের মোবাইলে এই (**২১*আপনার নাম্বার#) কোড ব্যবহার করা হয়। এই কোডের মধ্যে হ্যাকার নিজের নাম্বার ইউজ করে থাকে এবং বিভিন্ন কলাকৌশলে ভিকটিমের মোবাইলে কোডটি ডায়াল করিয়ে নেয়।

আর যদি একবার ডায়াল করতে পারে তাহলে শুধু হোয়াটস অ্যাপ নয় বরং ভিকটিমের সেই সিম দিয়ে যত একাউন্ট খুলা হয়েছে সবই হ্যাক করে নিতে পারবে।

কারণ ভিকটিমের মোবাইলে যে কোড ডায়াল করা হয়েছে সেটার মাধ্যমে ভিকটিমের সিমে যত কল আসবে সব হ্যাকারের কাছে চলে আসবে।

ফলে হোয়াটস অ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার জন্য যখন ওটিপি কোড চাইবে তখন অনায়াসেই ওটিপি কোড পাওয়া যাবে এবং ভিকটিমের হোয়াটস অ্যাপস আইডি হ্যাক হয়ে যাবে। তাই সচেতন থাকুন এবং নিজের মোবাইল অন্যের কাছে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

Whatsapp ID Hack করার আরো একটি উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে আরো সহজে হ্যাক করা সম্ভব। যারা হোয়াটসঅ্যাপ ইউজ করেন তারা অবশ্যই জানেন হোয়াটসঅ্যাপের মধ্যে একটি QR Code পাওয়া যায়। আর এই QR কোড দিয়েই হোয়াটস অ্যাপ আইডি হ্যাক করা সম্ভব।

কিভাবে QR কোড দিয়ে WHATSAPP ACCOUNT HACK করা হয়?

প্রতিটা হোয়াটস অ্যাপ আইডিতে QR code scan-করার জন্য একটি অপশন থাকে। আপনি যদি আপনার হোয়াটস অ্যাপ আইডিতে প্রবেশ করেন তাহলে রাইট সাইডে উপরের দিকে একটি থ্রী ডট আইকন দেখতে পাবেন এবং এটার মধ্যে ক্লিক করলে “WHATSAPP WEB”-নামের লেখাটি পাওয়া যাবে।

whatsapp account hack

আর ওই লেখার মধ্যে ক্লিক করলে QR CODE SCAN-করার জন্য ক্যামেরা ওপেন হয়ে যাবে। আর এই স্ক্যানের মাধ্যমেই আপনার WHATSAPP ID-খুব সহজেই হ্যাক হয়ে যাবে।

এখন আপনি হয়তো ভাবছেন কোন QR কোড স্ক্যান করলে আপনার WHATSAPP ACCOUNT HACK-হয়ে যাবে। তাহলে বিস্তারিত জেনে নিন-

প্রতারক/হ্যাকার প্রথমে “ web.whatsapp.com ”-এই এড্রেসে ভিজিট করবে। ভিজিট করলেই একটি ওয়েবপেজ ওপেন হবে যেখানে একটি QR CODE-দেওয়া থাকবে।

আর ওই QR CODE-যদি আপনার হোয়াটস অ্যাপে থাকা QR CODE SCANNER/(WHATSAPP WEB)-দিয়ে স্ক্যান করা হয় তাহলেই আপনার হোয়াটস অ্যাপ আইডি হ্যাকারের কাছে চলে যাবে এবং আপনার যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে নিবে।

সুতরাং হ্যাকার/প্রতারকদের হাত থেকে বাঁচার জন্য পদ্ধতিগুলো জেনে রাখুন। তাহলে নিজের সেইফটি নিজেই রাখতে পারবেন।

মোবাইল ফোন হ্যাক করার নিয়ম

স্মার্ট ফোন হ্যাক করা খুব একটা সহজ না। কিন্তু যারা প্রতারক বা অন্যের ক্ষতি করতে চায় তারাই বিভিন্ন ভাবে ভিকটিমের সাথে ছলনা করে মোবাইল হ্যাক করে থাকে।

যেমন- কোনো ব্যক্তি যদি আপনার মোবাইল হ্যাক করার পরিকল্পনা করে থাকে তাহলে সে প্রথমে আপনার মোবাইল যেভাবেই হোক সংগ্রহ করবে সাময়িক সময়ের জন্য।

আমি কোনো প্রোফেশনাল হ্যাকারের কথা বলছিনা। চেনাজানা কোনো মানুষ যদি ক্ষতি করতে চায় তাদের কথা বলছি। আর যারা প্রোফেশনাল হ্যাকার তারা খুব সহজেই আপনার মোবাইল হ্যাক করে নিতে পারবে আপনার অজান্তেই।

এখন আসি কেনো আপনার মোবাইলটি প্রতারক সাময়িক সময়ের জন্য হাতে নিবে? ইন্টারনেটে অনেক ধরনের হ্যাকিং সফটওয়্যার পাওয়া যায় যেগুলো দিয়ে খুব সহজেই মোবাইল হ্যাক করা সম্ভব।

প্রতারক যদি আপনার মোবাইলটি একবার হাতে নিতে পারে তখন সে হ্যাকিং অ্যাপটি আপনার মোবাইলে ইন্সটল করে দিবে।

এরপর থেকে হ্যাকার যেকোনো স্থান থেকেই আপনার মোবাইলের যাবতীয় তথ্য জানতে পারবে ও ডিভাইসটি কন্ট্রোল করতে পারবে। তাই আমি আগেই বলেছি মোবাইল একটি পার্সোনাল জিনিস যেটা সবার কাছে তুলে দিবেন না।

মোবাইল হ্যাকিং সফটওয়্যার

ইন্টারনেটে বিভিন্ন মোবাইল হ্যাকিং এপস ও spy apps থাকলেও সব অ্যাপস কার্যকরি না। কিছু হ্যাকিং অ্যাপস দ্বারা শুধুমাত্র কল লিস্ট, মেসেজ, সিম নাম্বার ও ফটো দেখা যায়।

আর কিছু প্রিমিয়াম অ্যাপস রয়েছে যেগুলো দিয়ে মোবাইলের যাবতীয় এক্সেস নিয়ে নেওয়া যায় এবং প্রতিটা মুহুর্তে মোবাইলে সে কি কি করছে সেটার আপডেট চলে আসে হ্যাকারের কাছে। চলুন জেনে নেই হ্যাকিং অ্যাপগুলো সম্পর্কে-

Catwatchful – একটি দুর্দান্ত মোবাইলে হ্যাকিং সফটওয়্যার। এই “catwatchful.com” থেকেই Catwatchful-হ্যাকিং সফটওয়্যার ডাউনলোড করা হয়।

প্রতারক বিভিন্ন উপায় বের করে ভিকটিমের মোবাইলে এই হ্যাকিং অ্যাপটি ইন্সটল করে দেয় এবং মোবাইলের যাবতীয় এক্সেস নেওয়ার জন্য অ্যাপের সব পারমিশন অন করে দেয়।

আর মোবাইল থেকে অ্যাপটি হাইড করে দিয়ে থাকে ফলে ভিকটিম বুঝতেও পারেনা তার মোবাইলে কোনো হ্যাকিং সফটওয়্যার ইন্সটল করা হয়েছে কিনা।

এটা তারাই বুঝতে পারে যারা মাঝে মাঝে মোবাইলের সেটিং এ যেয়ে সকল অ্যাপস চেক করে ও অজানা কোনো অ্যাপস থাকলে ডিলিট করে দেয়।

হ্যাকার যদি মোবাইল থেকে অ্যাপটি Hide-ও করে দেয় তারপরেও সেটা দেখা সম্ভব যদি ভিকটিম মোবাইলের সেটিং এ যেয়ে সকল Apps/Application-চেক করে।

এছাড়া আরেকটি উপায় দেখা যাবে আপনার মোবাইলটি হ্যাক হয়েছে কিনা, সেটা হলো মোবাইলের সিকিউরিটি চেক করা।

এন্ড্রয়েড মোবাইল হ্যাক

মোবাইলের সেটিং এ যেয়ে Security>Device administrators– এ প্রবেশ করে যদি সন্দেহজনক কোনো অ্যাপের পারমিশন দেওয়া আছে বলে মনে করেন তাহলে সেটার পারমিশন অফ করে দিবেন।

মোবাইল হ্যাকিং সফটওয়্যার

এটা যদি আপনি অফ করে না থাকেন আপনি Apps/Application-এ যেয়ে হ্যাকিং অ্যাপটি দেখতে পারলেও uninstall-করতে পারবেন না। তাই সবার আগে আপনাকে মোবাইলের সিকিউরিটি অপশনে যেয়ে হ্যাকিং অ্যাপটির সকল এক্সেস পারমিশন অফ করে দিতে হবে।

Catwatchful-এপস দিয়ে কিভাবে মোবাইল হ্যাক করা হয়?

এই অ্যাপটি ভিকটিমের মোবাইলে ইন্সটল করে দিলেই ভিকটিমের মোবাইলের সকল ধরনের এক্সেস পাওয়া যাবে না। এরজন্য রয়েছে Catwatchful-এর Web Control Page। চলুন বিস্তারিত জেনে নেই-

স্টেপ-১

Catwatchful-এর অফিসিয়াল সাইট থেকে Catwatchful apps download-করে অ্যাপটি ভিকটিমের মোবাইলে ইনস্টল করা হয়।

অ্যাপটি গুগল প্লে-স্টোরে পাওয়া যায় না তাই এর অফিসিয়াল সাইট থেকেই নামিয়ে নিতে হয়। ভিকটিমের মোবাইলে ইন্সটল করার সময় একটি আইডি জেনারেট করতে হয় যেটার মাধ্যমে ভিকটিমের ডিভাইস কন্ট্রোল করা লাগে।

এই অ্যাপটি ইন্সটল করার পূর্বে গুগল প্রটেক্টরে যেয়ে “scan device for security threads”-অফ করে দেওয়া হয়।

এটা অফ করার জন্য প্লে-স্টোরে প্রবেশ করে বাম সাইডে উপরে থাকা থ্রিডট আইকনে ক্লিক করলে play protect লেখা চলে আসে এবং ডান সাইডে উপরের দিকে সেটিংস আইকনে ক্লিক করে “scan device for security threads”-অফ করা হয়।

স্টেপ-২

এখন হ্যাকিং অ্যাপটি খুব সহজেই ইনস্টল করা যাবে। ইনস্টলের পর অ্যাপটি ওপেন করলে ৩টি স্টেপ আসবে। আর ৩টি স্টেপের কাজ শেষ হলে অ্যাপটি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে হাইড হয়ে যাবে।

প্রথম স্টেপে অ্যাপটির সম্পর্কে কিছু তথ্য ও এর ব্যবহারের নিয়মকানুন জানানু হয় এবং নিচে “Accept”-এর পাশে খালি ঘড়টি ক্লিক দিয়ে পূরণ করে “Continue”-তে ক্লিক করা হয়।

দ্বিতীয় স্টেপে দেখা যাবে মোবাইলের কোন কোন এক্সেসগুলো হ্যাকার নিতে পারবে। তো হ্যাকার সকল এক্সেস অন করে দেয় এবং “Continue”-তে ক্লিক করে।

hacking apps

তৃতীয় স্টেপে একটি আইডি ক্রিয়েট করতে হয় যেটা আমি আগেই বলেছি। তো হ্যাকারের কাছে যদি আগে কোনো আইডি ক্রিয়েট করা থাকে তাহলে “Sign in”-এ ক্লিক করে।

আর যদি আইডি না থাকে “Create User”-এ ক্লিক করে নতুন আইডি খুলে নেয়। এরপর নতুন একটি আইডি দিয়ে লগইন করা হয়। তবে মোবাইল কন্ট্রোল করার জন্য এই আইডি ও পাসওয়ার্ডের দরকার হয়।

এখন অ্যাপটি হাইড/লোকানোর জন্য “Hide Icon”-এ ক্লিক করে “Save”-করে দিলেই ওকে।

hacking apps

এবার ভিকটিমের মোবাইলে হ্যাকারের আর কোনো কাজ নেই। এখন এতো কিছু করার পরেও ভিকটিম বুঝতেও পারবে না তার মোবাইলে কি করা হয়েছে। কারণ কোনো কিছু দেখা যাবে না।

স্টেপ-৩

ভিকটিমের মোবাইলে হ্যাকিং সফটওয়্যার ইনস্টল করে দেওয়ার পর হ্যাকার এবার তার পিসি/মোবাইল থেকে ওয়েবকন্ট্রোল পেইজে যেয়ে ভিকটিমের মোবাইলে ইনস্টল করা অ্যাপের আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করলেই ভিকটিমের ডিভাইসের যবতিয় ইনফরমেশন জানতে পারবে।এছাড়া ভিকটিমের লোকেশন ট্র্যাক করাসহ যাবতীয় তথ্য জেনে নিতে পারবে খুব সহজেই।

hacking apps

এভাবেই মূলত একজন হিডেন দুশমন বা প্রতারক আপনার ক্ষতি করতে পারে। তাই স্মার্ট ফোন চালালেই চলবে না বরং স্মার্ট ফোন সেইফটি ভাবে চালানোর জন্য যাবতীয় জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

Minspy Apps-দিয়ে ANDROID মোবাইল হ্যাক

এন্ড্রয়েড মোবাইল হ্যাক করার আরো একটি জনপ্রিয় স্পাই অ্যাপের নাম মিনস্পাই। Catwatchful-অ্যাপের মতো এই অ্যাপ দিয়েও স্মার্ট ফোন হ্যাক করা সম্ভব।

তবে এই অ্যাপগুলো কিছু দিন ফ্রিতে ট্রায়াল দেওয়া যায় কারণ এগুলো প্রিমিয়াম অ্যাপস। যারা অন্যের ক্ষতি করতে পছন্দ করে তারা মূলত এইসব হ্যাকিং অ্যাপগুলো ক্রয় করে থাকে।

তবে একটা বিষয় মনে রাখবেন যারা কারো ক্ষতি করতে চায় তারা টাকার দিকে তাকায় না বরং ক্ষতি করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে থাকে।

Catwatchful-অ্যাপস যেভাবে ভিকটিমের মোবাইলে ইনস্টল করা হয় এটার ক্ষেত্রেও একই। মিনস্পাই অ্যাপেরও একটি ওয়েবকন্ট্রোল পেজ রয়েছে যেটার মাধ্যমে ভিকটিমের মোবাইল খুব সহজেই কন্ট্রোল করা যায়। এই অ্যাপগুলো শুধু এন্ড্রয়েড মোবাইলের জন্য না বরং আইফোনের মধ্যেও ইউজ করা যায়।

সাইবার ক্রাইম আইন বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম আইন

কোনো ব্যাক্তি যদি সাইবার ক্রাইমে জড়িয়ে পরে এবং সেটা প্রমাণিত হয় তাহলে বাংলদেশের আইন অনুযায়ী তার জন্য রয়েছে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা। “jagonews24”-থেকে পাওয়া সাইবার ক্রাইম আইন সম্পর্কে নিচে জেনে নিন-

hacking law of bangladesh

আপনি যদি কখনো মনে করেন আপনার মোবাইলের তথ্যগুলো অন্যকেউ আপনার অজান্তেই জেনে নিচ্ছে বা আপনাকে বিভিন্ন ভাবে ব্ল্যাক মেইল করছে তাহলে নির্ভয় থানায় একটি মামলা বা জিডি করে রাখতে পারেন। এতে পুলিশের কাছে একটা ইনফরমেশন থাকবে যেটা অতিরিক্ত পর্যায় চলে গেলে আপনার এই জিডি অনেক কাজে দিবে।

প্রতারক/হ্যাকার আপনাকে বিভিন্ন হুমকি দিতে পারে জেন আপনি কাউকে কিছু না বলেন বা পুলিশকে ইনফর্ম না করেন।

কিন্তু আপনি যদি প্রতারকের এই ভয়ে কাওকে না জানিয়ে বসে থাকেন তাহলে প্রতারক আরো সাহস পেয়ে যাবে এবং আপনাকে প্রতিনিয়ত অত্যাচার করে যাবে।

আপনি যেটাই করেন না কেন থানায় যদি আপনি একটি জিডি করে রাখতে পারেন তাহলে পরবর্তিতে আপনি যদি প্রতারকে বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেন তাহলে এই জিডি আপনার মামলাকে আরো মজবুত করে তুলবে। বাংলাদেশের আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান” বইটি পড়তে পারেন।

CATWATCHFUL DOWNLOAD

MINSPY DOWNLOAD

Note: এই আর্টিকেলটি সবাইকে সতর্ক করার উদ্দেশে লেখা হয়েছে এবং কেউ এর অপব্যবহার করলে টেকটোপিক কোনো ভাবেই দায়ী নয়।

উপসংহার

আজকের এই আর্টিকেল পোস্ট করার অন্যতম কারণ হলো বাংলাদেশে অনেক তরুণতরুণী সাইবার ক্রাইমে জড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকেই ব্ল্যাকমেইল এর শিকার হচ্ছে। তাই সাধারণ জনগণ যাতে সেইফটি ভাবে স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটার চালাতে পারে সেটাই এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

আশা করি আপনাদের কাছে আর্টিকেলটি অনেক ভালো লেগেছে। যদি এখান থেকে নতুন কিছু শিখতে ও জানতে পারেন তাহলে এখনই আর্টিকেলটি সবার কাছে শেয়ার করে দিন। নিজে সতর্ক হোন অন্যকে সতর্ক করুনধন্যবাদ!

Leave a Comment

error: Content is protected !!