ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার উপায় (croatia to italy)

ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি (croatia to italy) : বর্তমান সময় ইউরোপের দেশ রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়া নিয়ে নানা রকম আলাপ-আলোচনা চলছে। কারণ এ দুটি দেশ যেকোনো সময় ইউরোপের সেনজেন ভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় চলে যেতে পারে। ক্রোয়েশিয়া ইউরোপের মধ্যে অন্যতম সুন্দর একটি দেশ। যদিও ইউরোপের বেশিরভাগ দেশই সৌন্দর্যে ঘেরা। অনেক বাংলাদেশী ভাই ও বোনেরা ইউরোপ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন কলাকৌশল অবলম্বন করেন। তাই আমি আজকে ইউরোপের দেশ ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার একটা সুন্দর আলোচনা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।

ক্রোয়েশিয়া সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য

ক্রোয়েশিয়া দেশ পরিচিতি

কম খরচে ইউরোপ যাত্রা করার অন্যতম একটি দেশ হলো ক্রোয়েশিয়া। যেটার মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বের করে যাওয়া যায়। বর্তমান সময় ক্রোয়েশিয়া প্রচুর দক্ষ-অদক্ষ লোক নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। যদিও বাংলাদেশে ক্রোয়েশিয়ার কোনো এম্বাসি নেই।

মূলত ইন্ডিয়ার এম্বাসিগুলো ব্যবহার করেই বাংলাদেশী লোকগুলো ক্রোয়েশিয়া যেতে পারছে। ২০২০ সালের জড়িপ অনুযায়ী ক্রোয়েশিয়ার জনসংখ্যা আছে প্রায় ৪.০৪৭ মিলিয়ন যার আয়তন ৫৬,৫৯৪ বর্গ কিলোমিটার।

ক্রোয়েশিয়া দেশটি ছোট হলেও এদেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো অনেকটাই এগিয়ে যাচ্ছে। এবং এ দেশের একজন শ্রমিকের সর্বনিন্ম পারিশ্রমিক ৫৫০-৬৫০ ইউরো পর্যন্ত। যারা কাজ ভালো পারে এবং দক্ষ কর্মী তাদের বেতন পরবর্তিতে বাড়ানো হয়ে থাকে।

ক্রোয়েশিয়া যে কোম্পানিতে আপনি যাবেন সেই কোম্পানি আপনার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবে। তাই বেতন যা পাবেন অল্প কিছু খরচ হবে যা আপনার পকেট খরচ চালানোর জন্য এবং বাকিটা দেশে পাঠাতে পারবেন। প্রতিটি কোম্পানি আপনাকে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেও কিছু কোম্পানি রয়েছে যারা খাওয়ার সুযোগ করে দেয় না। কিন্তু খাওয়ার খরচ দিয়ে দিবে নিজে রান্না করে খাওয়ার জন্য।

কেন সবাই ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি চলে যায়?

বাংলাদেশে ক্রোয়েশিয়ার কোনো Embassy নাই এবং ইন্ডিয়া থেকে ভিসা লাগানোর মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়া যাওয়াতে কিছু টাকা বেশি খরচ হয় প্রায় ৬-৮ লাখ টাকা।

বাংলাদেশের কিছু এজেন্সি আছে যারা ইন্ডিয়ার এম্বাসির মাধ্যমে বৈধভাবে ক্রোয়েশিয়ায় লোক পাঠিয়ে থাকে। কিন্তু যারা বাংলাদেশী দালালের পাল্লায় পরে অবৈধ ভাবে যায় তারাই মূলত বেশি সমস্যায় পরে যায়। তারা ক্রোয়েশিয়ায় যেয়েই ইতালিতে যাওয়ার জন্য পাগল হয়ে যায় কারণ তারা ক্রোয়েশিয়ায় যেয়ে কোনো কাজ খুঁজে পায় না। অনেকে পেলেও অল্প টাকা বেতনে কাজ করতে পারে।

Bangladesh থেকে বৈধভাবে এজেন্সির মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়া গেলে তেমন বেশি টাকা খরচ হয় না। কিন্তু দালালের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে গেলে টাকা খরচ হয় বেশি। এতো টাকা খরচ করে ক্রোয়েশিয়া যাওয়ার পর বাংলা টাকায় মাত্র ৩৫-৫০ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকে। ফলে বেতন পেয়ে তারা সন্তুষ্ট না হওয়ায় বেশি অর্থ উপার্জনের জন্য ইতালির দিকে মোভ করে।

ক্রোয়েশিয়া দেশের আইন অনেক শক্ত যা অবৈধ উপায় ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি (croatia to italy) যেতে চাইলে তখন ধরা খেলে বোঝা যায়। ক্রোয়েশিয়া বর্ডার পাস করা অনেক কঠিন। কারণ সেই দেশের পুলিশ ধরতে পারলে প্রচুর অত্যাচার করে ও মারধর করে। এমনকি আপনার কাছে যা কিছু আছে কাপড় থেকে শুরু করে সবকিছুই রেখে দিবে।

শুধু তাই নয়, ক্রোয়েশিয়া পুলিশের কাছে ধরা খেলে যদি জানতে পারে আপনি বাংলাদেশী তাহলে তারা আপনাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিবে।

বৈধ ভাবে ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার উপায় – croatia to italy

ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি যাওয়া
ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি যাওয়া

ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি বৈধ উপায় যাওয়ার জন্য আপনাকে সেই দেশে ৩-৬ মাস থাকতে হবে। অর্থাৎ যে কোম্পানিতে আপনি যাবেন সেই কোম্পানি থেকে একটা TRC কার্ড বের কর নিতে হবে। এই TRC কার্ড মূলত ক্রোয়েশিয়ায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করার একটি লাইসেন্স কার্ড। যা আপনাকে সেই দেশে বৈধভাবে থাকার অনুমোদন দিবে।

আপনার TRC কার্ড বের হয়ে গেলে কোম্পানি থেকে NOC কার্ডের জন্য এপ্লাই করতে হবে। কিন্তু আপনি এপ্লাই করলেই কোনো কোম্পানি NOC কার্ড দিবে না। কারণ NOC কার্ড সহজে কোনো কোম্পানি দিতে চায় না।

NOC হলো No Objection Card যেটার মাধ্যমে আপনি এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পাবেন।

আপনার কোম্পানি যদি NOC কার্ড দিতে না চায় তাহলে এক থেকে দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। কারণ প্রতিবছর আপনার কোম্পানি দুই থেকে আড়াই মাস ছুটি প্রদান করবে। আর তখনই আপনাকে NOC দিবে যার মাধ্যমে আপনাকে দেশে এসে ছুটি কাটানো সুযোগ দিবে।

আপনি চাইলে তখন দেশে না এসে ইতালি যাওয়ার জন্য টুরিস্ট ভিসার এপ্লাই করতে পারেন। তখন টুরিস্ট ভিসায় ইতালি যাওয়ার জন্য আপনার কাছে কিছু ডকুমেন্ট থাকতে যেমন- TRC কার্ড, NOC কার্ড, ট্রাভেল লাইসেন্স

এইসব কাগজপত্রগুলো আপনার কাছে থাকলে খুব সহজেই আপনি ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি (croatia to italy) যেতে পারবেন।

এভাবেই দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি যেতে পারবেন। আর এই সময়টুকুই মানুষ অপেক্ষা করতে চায় না। ফলে অবৈধ উপায় ইতালি যাওয়ার জন্য ট্রাই করে পুলিশের কাছে ধরা খায় এবং বাংলাদেশে ফেরত আসে।

আমি বার বার বলছি ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য অবৈধ উপায় অবলম্বন করবেন না। কারণ ক্রোয়েশিয়া পুলিশ ধরতে পারলে প্রচুর নির্যাতন করে এবং দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

বৈধভাবে আরো একটি উপায় ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি (croatia to italy) যেতে পারবেন সেটা হলো PRC কার্ডের মাধ্যমে। এটি হলো স্থায়ীভাবে বসবাস করার কার্ড।

আপনি যদি PRC কার্ড পেয়ে জান তাহলে আপনাকে আর কোনো সমস্যায় পরতে হবে না। আপনি শুধু PRC কার্ডের মাধ্যমেই ভিজিট ভিসায় ইতালি যেতে পারবেন।

যদি কয়েক বছরের মধ্যে ক্রোয়েশিয়া ও রোমানিয়া সেনজেন হয়ে যায় তাহলে কোনো ভিসা লাগানো ছাড়াই ইতালি বা অন্যান্য সেনজেন কান্ট্রিগুলোতে যেতে পারবেন। কারণ ইউরোপ কান্টির বর্ডারগুলো আটকানো থাকে না। গাড়ি বা ট্রেনের মাধ্যমেই এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়া যায়।

আরো একটি অল্প সময়ের মধ্যে ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি যেতে পারবেন সেটা হলো বিয়ে। আপনি যদি ক্রোয়েশিয়ার কোনো নাগরিককে বিয়ে করতে পারেন তাহলে তার মাধ্যমেই একটি PRC কার্ড পেয়ে যাবেন। ফলে খুব সহজেই ইউরোপের যেকোনো দেশে যাওয়া আসা করতে পারবেন।

অবৈধ উপায় ক্রোয়েশিয়া টু ইতালি

ক্রোয়েশিয়ার পাশের দেশ

ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার অবৈধ প্রক্রিয়াটি আপনার কাছে শেয়ার আগে বলে রাখি যে ক্রোয়েশিয়া বর্ডারে ধরা পরলে যেমন নির্যাতনের শিকার হবে আবার দেশেও ফিরত আসতে হবে।

অবৈধ উপায় ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য কিছু মানব পাচারকারী দালাল চক্র রয়েছে যারা এক দেশ অন্যদেশে অবৈধ পথ বেঁছে নিয়ে পাচার করে দেয় বা পৌঁছে দেয়।

ক্রোয়েশিয়ায় অনেক বাংলাদেশী ভাইয়েরা আছে যারা ইতালি যাওয়ার জন্য অবৈধ পথ বেঁছে নিয়েছে এবং ইতালিতে না যেতে পেরে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

মূলত দালালের সাথে কন্টাক্ট করেই ইতালি যাওয়ার সুযোগ নেয়। অনেকে ক্রোয়েশিয়ার বর্ডার ক্রোস করে স্লোভেনিয়ায় পৌছে যেতে পারে এবং স্লোভেনিয়ার বর্ডার ক্রোস করেই ইতালি চলে যায়।

ক্রোয়েশিয়া ইউরোপের একটি নন শেনঝেন দেশ। এর পার্শবর্তি দুটি শেনঝেনভুক্ত দেশ রয়েছে হাঙ্গেরি ও স্লোভেনিয়া।

ইতালি যাওয়ার জন্য হাঙ্গেরি হলো ব্যাক সাইড ও স্লোভেনিয়া হলো ফ্রোন্ট সাইড। তাই সবাই স্লোভেনিয়ার মাধ্যমেই ইতালি যেতে চায়।

ক্রোয়েশিয়ার দালাল চক্রগুলো লড়ি গাড়িগুলোর মাধ্যমে বর্ডার ক্রোস করে ইতালি যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। এভাবে অনেকে সফল হয় আবার অনেকে ধরা খেয়ে যায়।

আবার অনেকে আছে একসাথে গ্রুপ তৈরি করে সবাই মিলে বর্ডার ক্রোস করার চেষ্টা করে ফলে ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ ধরে ফেলায় অমানবিক নির্যানত করে এবং দেশে রিপোর্ট করে দেয়।

সম্প্রতি কয়েক মাস আগেই দুজন বাংলাদেশীকে ক্রোয়েশিয়া থেকে রিপোর্ট করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। যখন বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে তাদের সাথে ক্রোয়েশিয়ার পুলিশও এসেছিলো। তাহলে বুঝতেই পারছেন কতটা গার্ডের মাধ্যমে তাদেরকে বাংলাদেশের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

যারা ভাগ্যের কারনে ক্রোয়েশিয়া বর্ডার ক্রোস করতে পারে তারা স্লোভেনিয়া থেকে গাড়িতে করে স্লোভেনিয়া ও ইতালির বর্ডার সামনে যেয়ে পৌঁছে। আর সেখান থেকেই ইতালি চলে যায়।

স্লোভেনিয়ার বর্ডার পার হতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না যতটা সমস ও ভুগান্তির শিকার হতে হয় ক্রোয়েশিয়া-স্লোভেনিয়ার বর্ডারে। অনেকে স্লোভেনিয়া থেকে দালালের মাধ্যমে ইতালি চলে যায় গাড়ি ব্যবহার করে।

অন্যদিকে যারা হাঙ্গেরির মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি (croatia to italy) যেয়ে চায় তারা মূলত দুটি দেশ পারি দেয়। হাঙ্গেরি থেকে অষ্ট্রিয়া ও সেখান থেকে ইতালি।

মূলত নন শেনঝেন দেশ থেকে শেনঝেন দেশে প্রবেশ করতে পারলেই অন্যান্য শেনঝেন দেশগুলোতে যাওয়া যায়। যেমন- ইতালি, ফ্র্যান্স, স্প্যান, পুর্তোগাল ইত্যাদি। শেনঝেনের বর্ডারগুলো গাড়ির মাধ্যমেই ক্রোস করা যায় তখন তেমন কোনো সমস্যা হয় না।

তবে যারা অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করে তাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। জঙ্গলে থাকতে হয়, খাওয়া দাওয়া ইত্যাদি নানা রকম সমস্যায় পরতে হয়। আর আপনি কত দিন জঙ্গলে থাকবেন তারও কোনো হিসাব নেই। অনেকে জঙ্গলে না খেয়ে মারাও যায়।

যদি আপনি দুর্গম পথ পারি দিয়ে ইতালি চলে যেতে পারেন তাহলে সেখানে যেয়ে বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। কয়েক বছর ইতালিতে থাকলে কাগজপত্র বানানো যাবে ও গ্রীন কার্ড পাওয়া যাবে।

সুতরাং ক্রোয়েশিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার আগে কয়েকবার ভেবে নিন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিন যে ক্রোয়েশিয়ার মধ্যেই এক থেকে দুই বছরের মতো থেকে বৈধ উপায় বিমানের মাধ্যমেই ইতালি যাবেন।

উপসংহার

ইউরোপ যাওয়ার জন্য বাংলাদেশী ভাইদের অত্যন্ত বিনয়য়ের সাথে বলছি আপনারা যারাই ইউরোপে যাবেন বৈধ ভাবে যাওয়ার চেষ্টা করুন এবং যদি নন শেনঝেনভুক্ত দেশে যেতে চান তাহলে দয়াকরে সেখানে কয়েকবছর থাকুন ও সেখান থেকেই বৈধ উপায় শেনঝেন দেশগুলোতে প্রবেশ করুন। আশা করি সবাই বোঝতে পেড়েছেন। ধন্যবাদ!

আরো পড়ুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *