ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করার সবচেয়ে সহজ ও আদর্শ উপায়

ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি (Creating a free website) : হ্যালো বন্ধুরা, আপনি কি একটি ফ্রী ওয়েবসাইট খুলতে চান? কিভাবে খুলবেন ও ওয়েবসাইট থেকে কীভাবে টাকা ইনকাম করবেন? একটি ওয়েবসাইট তৈরী করতে কি কি জানতে হবে ও ফ্রিতে ওয়েবসাইট খোলার সবচেয়ে সহজ নিয়ম কি? সকল প্রশ্নের সমাধান পাবেন এই আর্টিকেলে। তাহলে চলুন মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

ওয়েবসাইট তৈরি ও চালানোর জন্য ওয়েবাসাইট কি সেটা আগে জানতে হবে। কতগুলো ওয়েব পেজ এর মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট তৈরি হয়। তাই চলুন ওয়েবসাইট নিয়ে কিছু ধারণা নিয়ে নেই।

ওয়েবসাইট কি – What is Website?

এক কথায় বলতে গেলে কতগুলো ওয়েব পেইজের সমন্বয়কে ওয়েবসাইট বলা হয়। ওয়েবসাইটে থাকা সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তুর একটি সংগ্রহ যা একটি ডোমেইনের মাধ্যমে আইডেন্টিফাইড হয়ে থাকে ও এটি প্রকাশিত হয় সর্বনিন্ম একটি ওয়েব সার্ভারে। আবার ডোমেইনে থাকা যাবতীয় তথ্য প্রদর্শন হয়ে থাকে একটি আন্তঃসংযোগকৃত তথ্য ভান্ডারের মাধ্যমে যা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (World Wide Web) নামে পরিচিত। আবার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর তথ্যগুলো দেখার জন্য একটি ব্রাউজারের প্রয়োজন হয় এবং ব্রাউজার থেকে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের তথ্যগুলো খুঁজে পাওয়া যায়।

যেমনঃ Techtopik.Com একটি ওয়েবসাইট এবং এই আর্টিকেলটি রয়েছে একটি পেইজে। যেটাকে ওয়েব পেজ বলা হয়। এভাবে যতগুলো আর্টিকেল পোস্ট করা হয়েছে সবগুলোই এক একটি ওয়েব পেজ। আর এই পেজগুলো নিয়েই তৈরি হয়েছে TechTopik.Com ওয়েবসাইট। আর ডট কম হলো ডোমেইন নামের Extensions এবং যেটা একটি ওয়েব সার্ভারে যুক্ত থাকে ও এর যাবতীয় তথ্যগুলো ওয়েব হোস্টিং/সার্ভারের মধ্যেই থাকে।

ডোমেইন কি – What is Domain?

একটি ওয়েবসাইট স্বতন্ত্রভাবে আইডেন্টিফাইড করার জন্য যে নাম একক ভাবে তৈরি করা হয় তাকে ডোমেইন নাম বা ডোমেইন বলা হয়। অর্থাৎ আপনি যদি কোনো ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে প্রথমে সেটার নাম সিলেক্ট করতে হবে ও তার একটি এক্সটেশন যুক্ত করতে হবে। যেটা হতে হবে এক ও অদ্বিতীয়।

হোস্টিং কি – What is Hosting?

ওয়েবসাইটের স্টোরেজ ও সার্ভার হিসেবে কাজ করে হোস্টিং। এটি এমন একটি সার্ভিস যা এক বা একাদিক ওয়েবসাইটের স্টোরেজ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কাজ করে থাকে। আর এই হোস্টিং এর মাধ্যমেই মূলত আপনার ওয়েবসাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী প্রদর্শন করানো যাবে। হোস্টিং অনেক ধরনের হয়ে থাকে। ভালো মানের ওয়েব হোস্টিং (web hostings) ব্যবহার করলে ওয়েবসাইট সবসময় অনলাইন থাকবে ও স্পীড ভালো পাওয়া যাবে। ফলে আপনার ওয়েব পেজগুলো সবাই দ্রুত দেখতে পারবে।

ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে?

একটি ওয়েবসাইট তৈরী করতে যেসব জিনিসগুলো লাগবে সেগুলোর প্রায় অর্ধেকটাই এরই মাঝে জেনে গিয়েছেন। ভালো মানের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে অনেক কিছুই দরকার হয়। তবে আপনি যদি একটি নরমাল ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট খুলতে চান তাহলে কয়েকটি জিনিস অবশ্যই জানা লাগবে।

যেমনঃ ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করতে ডোমেইন ও হোস্টিং দরকার হয়। তার সাথে ওয়েবসাইট ডিজাইন করার জন্য একটি টেমপ্লেট ও নানা রকম প্লাগইনের প্রয়োজন পরে। Theme/Template ও Plugin নির্ভর করে আপনি কোন প্লাটফর্মের মাধ্যমে ওয়েবসাইটটি চালাতে চান।

মূলত একটি ব্লগ সাইট চালানোর জন্য GOOGLE BLOGGER প্লাটফর্ম বেঁছে নেয় সবাই। কিন্তু সেটার জনপ্রিয়তা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কারন গুগল ব্লগারে তেমন কোনো প্লাগইন পাওয়া যায় না এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট কাস্টমাইজ করা যায় না। অনেকের কাছে গুগল ব্লগার ভালো লাগতে পারে তবে আমার কাছে যেমনটা মনে হয়েছে আমি সেটাই বলেছি।

অন্যদিকে WORDPRESS হলো জনপ্রিয় একটি ওয়েব প্লাট ফর্ম। এই প্লাটফর্মে হাজার হাজার থীম ও প্লাগইন পাওয়া যায় ওয়েবসাইট কস্টমাইজ করার জন্য।

এছাড়াও এটার মাধ্যমে খুব সহজেই ওয়েবসাইট কন্ট্রোল করতে পারবেন। ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে আপনি ব্লগ সাইট, ই-কমার্স সাইট ও অন্যান্য যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট চালাতে পারবেন খুব সহজে। অর্থাৎ ইউজার ফ্রেন্ডলি একটি প্লাটফর্ম হলো ওয়ার্ডপ্রেস

ওয়েবসাইট কন্ট্রোল করার জন্য ব্লগার ও ওয়ার্ডপ্রেস এ দুটি প্লাটফর্ম সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। তবে আরো বিভিন্ন ধরনের প্লাটফর্ম রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে ওয়েবসাইট কন্ট্রোল করা যাবে যেমনঃ Joomla, Weebly, Shopify, Wix ইত্যাদি। সুতরাং আপনার পছন্দ মতো যেকোনো একটি ওয়েব বিল্ডারস নিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন খুব সহজেই।

ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি – Create a free website

ওয়েবসাইট নিয়ে আপনার যদি পূর্বে কোনো ধারণা না থাকে অর্থাৎ কোনো কখনো ব্যবহার করেননি তাহলে আপনার সুবিধার্থে একটি ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করেনিন।

এটার মাধ্যমে আপনি ওয়েবসাইট সম্পর্কে ভালো বোঝতে পারবেন এবং টাকা খরচ ওয়েবসাইট তৈরি করলে তখন ওয়েবসাইটের কোনো সমস্যায় পরবেন না। কারন একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করার সময় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয় তখন আপনার যদি পূর্বে ধারণা থেকে থাকে তাহলে সেই সমস্যা খুব সহজেই সমাধান করতে পারবেন। এতে আপনার ওয়েবসাইট ক্ষতি হওয়ার হাত থেকে অনেকটাই বেচে যাবে।

ফ্রিতে ওয়েবসাইট তৈরি করার কিছু ওয়েব বিল্ডার নিচে দেওয়া হলো-

  1. blogger.com
  2. wordpress.com
  3. weebly.com
  4. wix.com
  5. webnode.com
  6. webflow.com
  7. godaddy.com
  8. zyro.com

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য এইসব ওয়েব বিল্ডারগুলো বেশ জনপ্রিয়। এর মধ্য থেকে blogger.com হলো ফ্রিতে ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য সবচেয়ে বেস্ট। আপনি যেহেতু মোবাইল দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাচ্ছেন সুতরাং এই প্লাটফর্মগুলোই আপনার জন্য ভালো হবে।

এইসব Web Builder থেকে ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করতে আলাদাভাবে ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় করতে হবে না এবং ওয়েবসাইট ডিজাইন করার জন্য আলাদা কোনো টেমপ্লেট/থীমের দরকার পরবে না। আপনি সবকিছু ফ্রিতেই পেয়ে যাবেন।

টাকা খরচ করে ওয়েবসাইট তৈরি

কোনো প্রকার টাকা খরচ না করে কিভাবে ফ্রি ওয়েবসাইট বানানো যায় সেটা এরই মাঝে আপনারা জেনে গিয়েছেন। এখন আপনি জেনে রাখুন টাকা/ডলার খরচ করে ওয়েবসাইট খোলার নিয়ম ।

আপনি যদি ভালো মানের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে অবশ্যই অর্থ খরচ করতে হবে। ফ্রিতে ওয়েবসাইট বানানো যায় তবে সেটার পারফর্মেন্স তেমন ভালো হয় না। আমি আগেই বলেছি ফ্রি ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করবেন শুধুমাত্র ওয়েবসাইট ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার জন্য।

আর আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট খুলে আয় করতে চান তাহলে সেটার মধ্যে কিছু ইনভেস্ট করতে হবে। ফ্রি ওয়েবসাইট দিয়ে টাকা ইনকাম করা যায় কিন্তু সেটায় আপনার অনেক পরিশ্রম করতে হবে ও অনেক সময় ব্যয় হবে।

বর্তমানে অল্প কিছু টাকা খরচ করলেই একটি ওয়েবসাইট বানানো যায়। যাদের টাকা খরচ করার মতো কোনো অপশন নেই তারা কিছু না হলেও হোস্টিং টা ক্রয় করে নিবেন। আর ডোমেইন চাইলে ফ্রিতে নিয়ে নিতে পারবেন।

ওয়েবসাইট খোলার জন্য যাবতীয় আইটেম যদি ক্রয় করেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটে যারা ভিজিট করবে তারা স্পিড পাবে, ওয়েবসাইট স্লো দেখাবে না, ডোমেইন Online থাকবে সবসময়, ডোমেইনের সাথে এসএসএল (ssl) ওয়েবসাইট সিকিউর থাকবে ও স্পীড আরো বেশি পাওয়া যাবে। এছাড়া যেটা মূল বিষয় সেটা হলো ভালো মানের একটি হোস্টিং সার্ভার পছন্দ করা।

আপনি যদি ক্লাউড হোস্টিং ক্রয় করেন তাহলে ওয়েবসাইট সবসময় অনলাইন থাকবে ও ভিজিটররা আপনার ওয়েবসাইটে যেকোনো সময় ভিজিট করতে পারবে।

ভালো মানের ক্লাউড হোস্টিং ক্রয় করলে আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করে সবাই মজা পাবে। ফলে সবাই আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করবে এবং আপনি বেশি পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

মোট কথা ওয়েবসাইট যদি অনলাইন থাকে ও Speed পাওয়া যায় তাহলে সার্চ ইঞ্জিনে আপনার সাইট সবার আগে চলে আসবে। ফলে আপনার পোস্টগুলো সবার কাছে আগে দেখানো হবে।

ডোমেইন হোস্টিং কেনার আগে

সারা বিশ্বে ডোমেইন অ্যান্ড হোস্টিং কেনার অনেক সার্ভার রয়েছে। যার যেটা পছন্দ ও ভালো মনে হয় সে সেটাই ক্রয় করে থাকে। তবে কিছু ডোমেইন হোস্টিং সার্ভার রয়েছে যেগুলো বর্তমান বাজারে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

সেরা ডোমেইন হোস্টিং কোম্পানি –

  • Bluehost web hosting – ওভার অল সবকিছুর জন্য সেরা ওয়েব হোস্টিং সার্ভার ।
  • Hostwinds – সেরা ডেডিকেটেড ওয়েব হোস্টিং সার্ভার ।
  • Hostinger – সেরা ক্লাউড ওয়েব হোস্টিং সার্ভার ।
  • GreenGeeks – বেস্ট গ্রীন হোস্টিং সার্ভার ।
  • Hostgator – বেস্ট শেয়ার্ড হোস্টিং সার্ভার ।
  • Namecheap – সেরা আনলিমিটেড ওয়েব হোস্টিং সার্ভার ।
  • Inmotion – সেরা রিসেলার ওয়েব হোস্টিং সার্ভার
  • Domain.com – সেরা শেয়ার্ড হোস্টিং প্রোভাইডার ।
  • Dreamhost – বেস্ট ই-মেইল হোস্টিং প্রোভাইডার ।
  • Liquid Web – বেস্ট ম্যানেজড হোস্টিং প্রোভাইডার ।

কোন হোস্টিং ও ডোমেইন কেমন সেটা নিয়ে অন্যদিন আলোচনা করা হবে। এখন ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার জন্য যাদের বাজেট বেশি তারা মূলত এইসব হোস্টিং কোম্পানিগুলো থেকে ডোমেইন হোস্টিং ক্রয় করে থাকে। এবং আপনার বাজেট যদি ৬-৭ হাজার টাকার মতো হয়ে থাকে তাহলে Namecheap Hosting Company বেঁছে নিতে পারেন। এটা থেকে অল্প টাকা দিয়ে ডোমেইন হোস্টিং ক্রয় করতে পারবেন ও এর জনপ্রিয়তাও ভালো। শুধুমাত্র কম বাজেট যাদের তাদের জন্য প্রযোজ্য।

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা লাগে?

সাধারণত একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে ৬-৭ হাজার টাকার মতো খরচ করলেই হয়ে যায়। যারা আরো ভালো মানের হোস্টিং ও ডোমেইন সার্ভার ব্যবহার করতে চান তাদের জন্য এমাউন্ট আরো বেড়ে যাবে। আপনি যদি নেমচিপ হোস্টিং কোম্পানি থেকে একটি ডোমাইন, ক্লাউড হোস্টিং ও এসএসএল ক্রয় করে থাকেন তাহলে আপনার খরচ কত হতে পারে তা নিচে দেওয়া হলো- আমি বর্তমান বাজারমূল্যটা জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।

  • Domain (.Com) 1 year = 8.88 $ / ৭৫৬.৫৩ টাকা /-
  • Shared Cloud Hosting (US Datacenter) 1 year = 57.88 $ / ৪৯৩১.১১ টাকা /-
  • Positive SSL Certificate 1 year = 10.00 $ / ৮৫১.৯৫ টাকা /-
  • Total Amount = 76.76 $ / ৬৫৩৯.৫৯ টাকা /-

এখানে বর্তমান মূল্য নিয়ে হিসাব করা হয়েছে। এই বাজেটের মধ্যে যারা ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তারা নেমচিপ হোস্টিং কোম্পানি থেকেই ডোমেইন হোস্টিং কিনতে পারেন কোনো সমস্যা নেই।

হোস্টিং যদি আপনার কাছে বেশি দাম বলে মনে হয় তাহলে ক্লাউড হোস্টিং ছাড়া শেয়ারড হোস্টিং (Shared Hostings) নিতে পারেন কিন্তু ওয়েবসাইট মাঝে মাঝে ডাউন থাকবে ও সাইট স্লো থাকবে। এখন আপনার কাছে যেটা ভালো মনে হয় সেটাই করবেন।

কম খরচে ওয়েব সাইট তৈরি

উপরে যে বাজেট করা হয়েছে তার থেকেও যদি আপনার বাজেট কম থাকে তাহলে অল্প খরচে ওয়েবসাইট তৈরির আরেকটি উপায় বেঁছে নিতে পারেন।

যেমন আপনি যদি বাংলা আর্টিকেল পোস্ট (bangla article post) করার জন্য একটি ব্লগ সাইট তৈরি করতে চান তাহলে বাংলাদেশেই বিভিন্ন হোস্টিং কোম্পানি রয়েছে যারা রিসেলার হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও ভালো মানের কিছু হোস্টিং কোম্পানি পাবেন যাদের হোস্টিং সার্ভিস ভালো দেয় এবং বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটসহ নানা রকম ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

বাংলাদেশে যারা ডোমেইন হোস্টিং ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে তাদের কাছ থেকে Domain Hosting কিনতে পারবেন সবচেয়ে কম খরচে। তারা আপনাকে নিয়মিত সাপোর্টও দিবে।

এছাড়াও বাংলাদেশী হোস্টিং প্রোভাইটররা হোস্টিং এর সাথে ডোমেইন ফ্রি (free domain) দিয়ে থাকে বিভিন্ন সময়।

মূলত বেশিরভাগ সময়ই তারা হোস্টিং এর সাথে ডোমেইন ফ্রি দেয় ও অল্প খরচে দিয়ে থাকে। আপনি প্রায় ১৫০০-২০০০ টাকার মধ্যেই ডোমেইন হোস্টিং ক্রয় করতে পারবেন।

ব্ল্যাক ফ্রাইডে সেল – Black Friday Sale

বড় ধরনের ডোমেইন হোস্টিং কোম্পানিগুলো উপরে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যারা সেই কোম্পানিগুলো থেকে ডোমেইন হোস্টিং ক্রয় করতে চান কিন্তু কম খরচে তাদের জন্য রয়েছে ব্ল্যাক ফ্রাইডে সেল।

এই ব্ল্যাক ফ্রাইডে সেল নামটি হয়তো অনেকই শুনেনি। ব্ল্যাক ফ্রাইডে নিয়ে অনেক বড় একটি ইতিহাস রয়েছে যেটা এখানে আলোচনা করা সম্ভব না।

তবে এটা জেনে রাখুন যে ব্ল্যাক ফ্রাইডে হলো শপিং করার ব্যস্ততম একটি দিন। এই দিনে ইউরোপ অ্যামেরিকার মতো মহাদেশে শপিং করা নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকে। কারন ডিসেম্বার মাসে তাদের ক্রিসমাস ডে (Christmas Day) এবং এরজন্য এটা নভেম্বরের শেষ দিকে শুরু হয় ও ডিসেম্বার মাসের শেষে শেষ হয়।

ব্ল্যাক ফ্রাইডে (Black Friday) নিয়ে কিছু কথা বলার কারন হলো এই সময় বিভিন্ন কোম্পানি বড় ধরনের অফার নিয়ে আসে। প্রায় অর্ধেক দামেই বিভিন্ন জিনিস কেনাকাটা করা যায়। বিভিন্ন হোস্টিং কোম্পানি প্রায় ৭০-৮০% অফার দিয়ে থাকে ফলে প্রচুর সেল হয়।

সুতরাং আপনি বোঝতেই পারছেন জনপ্রিয় হোস্টিং কোম্পানিগুলো থেকে কম দামে ডোমেইন হোস্টিং (Domain Hosting) কেনার জন্য কি করতে হবে।

কিভাবে ফ্রি ওয়েবসাইট বানানো যায়?

আপনি যদি ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরী করতে চান তাহলে সবকিছু ফ্রিতে নিতে হবে যেমনঃ ডোমেইন, হোস্টিং ও এসএসএল সার্টিফিকেট। তাহলে চলুন বিস্তারিত জেনে নেই-

ফ্রি ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন – Free Domain Registration

ফ্রি ডোমেইন

একটি ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ফ্রি ডোমেইন লাগবে। আর এই ডোমেইন প্রিমিয়াম ডোমেইনের মতো স্পীড পাবে না, তবে ফ্রিতে ইউজ করার জন্য ভালো।

জনপ্রিয় কিছু ফ্রি ডোমেইন রয়েছে যা দ্বারা আপনি একটি ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন। ডোমেইনগুলো হলো- .TK / .ML / .GA / .CF / .GQ ইত্যাদি।

ফ্রি ডোমেইনের জন্য আরো একটি উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি প্রিমিয়াম ডোমেইন পেয়ে যাবেন ফ্রিতে। প্রিমিয়াম ডোমেইন ফ্রিতে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশী কিছু Hosting Server রয়েছে যারা স্বল্প মূল্যে হোস্টিং দিয়ে থাকে ও এর সাথে Free Domain Provide করে ১ বছরের জন্য। এই আইডিয়াটি আপনার কাছে ভালো লাগলে কাজে লাগাতে পারেন।

ফ্রি হোস্টিং সাইট – Free Hosting Sites

ফ্রি হোস্টিং সাইট

Website create করার জন্য ফ্রিতে হোস্টিং নিতে চাইলে এখানে দেওয়া ওয়েবসাইটগুলো বেঁছে নিতে পারেন।

infinityfree.net

এই ওয়েবসাইট থেকে ফ্রি ওয়েব হোস্টিং সেবা নিতে পারবেন ও চাইলে ডলার দিয়ে প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং-ও ক্রয় করতে পারবেন।

আপনি সম্পূর্ণ ফ্রিতে এখান থেকে ফ্রি হোস্টিং ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া আনলিমিটেড ওয়েবসাইট (unlimited websites) যুক্ত করা যাবে ও Unlimited Hosting ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকবেন।

freehosting.com

ফ্রি হোস্টিং এর জন্য আরো একটি প্লাটফর্ম এটি। কোনো ঝামেলা ছাড়াই খুব সহজে এই প্লাটফর্ম থেকে লাইফটাইমের জন্য হোস্টিং সেবা নিতে পারেন সম্পূর্ন ফ্রি। এটার মধ্যে আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ পাবেন ও ২৪ ঘন্টা অনলাইন থাকবে।

freehostia.com

ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ফ্রি হোস্টিং সার্ভার হিসেবে এই প্লাটফর্মটি বেঁছে নিতে পারেন। এই হোস্টিং এর মধ্যে ২৫০ Megabyte storage space পাবেন ও ৫টি ডোমেইন হোস্ট করা যাবে। এছাড়াও ৩টি Email Account করা যাবে ও মাসে ৬জিবি ট্র্যাফিক পাওয়া যাবে। সুতরাং Free Hosting Server হিসেবে এটাও খারাপ না।

awardspace.com

বিনামূল্যে হোস্টিং ক্রয় করতে চাইলে এই প্লাটফর্মটি আপনার জন্য। এখান থেকে ফ্রি হোস্টিং নিয়ে ৪টি ওয়েবসাইট হোস্ট করতে পারবেন ও ৯৯.৯% নেটওয়ার্ক আপটাইম দেওয়া হবে। ফ্রি হোস্টিং হওয়াতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো বিজ্ঞাপন আসবে না ও ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা এর মতো প্লাটফর্মে ওয়েবসাইট রান করতে পারবেন।

byet.host

কোনো খরচ ছাড়াই একটি হোস্টিং সেবা নেওয়ার জন্য এই প্লাটফর্ম (Platform) বেঁছে নেওয়া যেতে পারে। ওয়েবসাইটে ভিজিট করে ফ্রি সাইন আপ করে ফ্রি হোস্টিং (Free hostings) সেবা নিতে পারবেন। এটার মধ্যে ১ গিগাবাইট ডিস্ক স্পেস পাবেন ও এফটিপি একাউন্ট, ফাইল ম্যানাজার, কন্ট্রোল প্যানেল এবং ৫টি ডোমেইন যুক্ত করা যাবে। এক কথায় এটা একটি দুর্দান্ত Free Hosting Platform।

ফ্রি থিম/টেমপ্লেট – Theme/Template

ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য সবকিছুই এখন মোটামুটি পাওয়া গেছে কিন্তু ওয়েবসাইট ডিজাইন করার জন্য ভালো থিম/টেমপ্লেটের দরকার হয়। যারা কোডিং পারেন তারা নিজেরাই এগুলো তৈরি করতে পারবেন। আর যারা কোডিং সম্পর্কে ভালো জানেন না তারা ফ্রিতে ডাউনলোড করতে পারেন।

আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস এর মধ্যে ওয়েবসাইট রান করেন তাহলে সেখানে নানা রকম থিম দেওয়া থাকবে যেগুলো সম্পুর্ণ ফ্রি। ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য ফ্রি থিম ডাউনলোড করতে WordPress.org এ ভিজিট করতে পারেন।

এছাড়া যারা গুগল ব্লগারে ওয়েবসাইট রান করবেন তারাও সেখান অনেক ধরনের ফ্রি টেমপ্লেট পেয়ে থাকবেন। ব্লগারের জন্য ফ্রি টেমপ্লেট ডাউনলোড করতে Gooyaabitemplates.com এ ভিজিট করতে পারেন।

ওয়েবসাইট এসইও – Website seo

এসইও কি

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করলেই কোনো সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে ভিজিটর খুঁজে পায় না, যদি সেটা সার্চ ইঞ্জিনের সাথে যুক্ত না করা হয়। হ্যা! পাওয়া যায় তবে সেটা ওয়েবসাইটের ফুল নাম লিখে সার্চ করলে। আর এটা করার সময় নেই কোনো ভিজিটরের।

তাই আপনার ওয়েবসাইট ও ওয়েবসাইটের সকল পাবলিশ করার কনটেন্ট বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স করার জন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করতে হয়।

আপনি যদি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (Search engine optimization) করেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ হওয়া সকল কনটেন্ট অটোম্যাটিক সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স হয়ে যাবে। ফলে হাজার লক্ষ ভিজিটর চলে আসবে আপনার ওয়েবসাইটে।

আপনি যদি ভালো মানের কনটেন্ট পাবলিশ করতে পারেন তাহলে আপনার সাইট সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেইজে চলে আসবে এবং আপনার ওয়েবসাইট (Website) সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবে।

বর্তমানে জনপ্রিয় কিছু সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে যেগুলো মানুষ বেশি ব্যবহার করে থাকে। যেমন- Google, Bing, Yahoo, Ask, Baidu ইত্যাদি।

আপনি যদি ওয়েবসাইটে বাংলা কনটেন্ট শেয়ার করেন তাহলে Google, Bing, Ask, Yahoo এই কয়টার সাথে ওয়েবসাইট যুক্ত করলেই হয়ে যাবে। কারন বাংলাদেশীরা এগুলোই বেশি ইউজ করে থাকে বিশেষ করে গুগল।

আর যদি ইংলিশ বা অন্যান্য ভাষার মাধ্যমে কনটেন্ট শেয়ার (content share) করে থাকেন তাহলে উপরের সবগুলোই বেঁছে নিতে পারেন। তবে গুগলের সাথে অবশ্যই যুক্ত করবেন। কারন সারা বিশ্বের মধ্যে গুগল সার্চ ইঞ্জিন সবার সেরা।

ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয়

বর্তমানে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনেক ভাবেই টাকা ইনকাম করা যায়। আপনার ওয়েবসাইট কি রিলেটেড সেটার উপর ভিত্তি করে ওয়েবসাইট থেকে টাকা ইনকাম (Taka Income) নির্ভর করে। যদি ইংলিশ কনটেন্ট পাবলিশ করেন তাহলে গুগলে এডসেন্স ও ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। আর যদি বাংলা আর্টিকেল শেয়ার করেন তাহলে গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয় (Earn money from Google Adsense) করা যাবে। ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing) করা যাবে যদি বেশি ভিজিটর থাকে ওয়েবসাইটের মধ্যে।

মূলত বাংলা আর্টিকেল শেয়ার করা ওয়েবসাইটগুলো থেকে গুগল এডসেন্স (Google Adsense) ছাড়া অন্যকোনো সোর্সের মাধ্যমে ইনকাম করা খুব কঠিন। তারপরেও আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর বেশি থাকলে বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে আলাদা ভাবে টাকা ইনকাম করার সু্যোগ পাবেন। সুতরাং এভাবেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে টাকা আয় (make money by building websites) করা যায়।

উপসংহার

একটি ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম ও এর থেকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় সম্পূর্ণ বর্ণনা এখানে দেওয়া হয়েছে। কোনো টপিক বোঝতে না পারলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আর্টিকেলটি পড়ে আপনার মতামতটি নিজের মতো করে কমেন্টে বলতে পারেন। ধন্যবাদ!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *